ফ্যারাডের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন সূত্র: সংজ্ঞা, সূত্র ও ব্যবহার
ফ্যারাডের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন সূত্র কী?
ফ্যারাডের
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক
ইন্ডাকশন সূত্র তড়িৎ ও চৌম্বকত্বের
একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি। কোনো বদ্ধ পরিবাহকের
মধ্য দিয়ে অতিক্রমকারী চৌম্বক
ফ্লাক্স
(Magnetic Flux) পরিবর্তিত
হলে ওই পরিবাহকে একটি
আবিষ্ট তড়িৎচালক বল বা আবিষ্ট EMF (Induced EMF)
সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকেই
তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic
Induction) বলা হয়।
সহজভাবে বললে, চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের কারণে পরিবাহকে বৈদ্যুতিক বিভব বা EMF সৃষ্টি হওয়াই তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ।
এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই
জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, ইন্ডাকশন কুকারসহ বহু বৈদ্যুতিক যন্ত্র
কাজ করে।
এই লেখায় আপনি জানবেন ফ্যারাডের
সূত্র কী, ফ্যারাডের প্রথম
ও দ্বিতীয় সূত্র, Faraday's Law
formula, চৌম্বক ফ্লাক্স ও আবিষ্ট EMF-এর
সম্পর্ক, সূত্রের গাণিতিক রূপ, উদাহরণ, লেঞ্জের
সূত্রের সঙ্গে সম্পর্ক, বাস্তব জীবনে ব্যবহার এবং পরীক্ষায় আসতে
পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ ট্রান্সফরমার কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী? সম্পূর্ণ বিস্তারিত
তড়িৎ
চৌম্বকীয় আবেশ বা Electromagnetic Induction
কী?
তড়িৎ
চৌম্বকীয় আবেশ হলো এমন একটি
প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো পরিবাহকের সঙ্গে
সম্পর্কিত চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের কারণে ওই পরিবাহকে আবিষ্ট
EMF উৎপন্ন হয়।
উনিশ শতকে বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে (Michael Faraday) পরীক্ষার মাধ্যমে দেখান যে পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন করা সম্ভব। একটি সহজ উদাহরণ ধরা যাক।
একটি কুণ্ডলীর কাছে একটি চুম্বক রাখা হলো। চুম্বকটি স্থির থাকলে কুণ্ডলীতে কোনো স্থায়ী আবিষ্ট তড়িৎ প্রবাহ পাওয়া যাবে না। কিন্তু চুম্বকটিকে কুণ্ডলীর দিকে এগিয়ে বা দূরে সরালে কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে যাওয়া চৌম্বক ফ্লাক্স পরিবর্তিত হবে এবং কুণ্ডলীতে আবিষ্ট EMF সৃষ্টি হবে।
অর্থাৎ,
চৌম্বক ফ্লাক্স পরিবর্তন → আবিষ্ট EMF সৃষ্টি → বর্তনী বন্ধ থাকলে আবিষ্ট তড়িৎ প্রবাহ
ফ্যারাডের
প্রথম সূত্র
Faraday's First Law কী
বলে?
ফ্যারাডের
প্রথম সূত্র অনুযায়ী, কোনো বদ্ধ বর্তনীর সঙ্গে সম্পর্কিত চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তন ঘটলে সেই বর্তনীতে একটি আবিষ্ট EMF সৃষ্টি হয়।
আরও
সহজ ভাষায়:
চৌম্বক
ফ্লাক্স পরিবর্তন হলেই পরিবাহকে আবিষ্ট EMF উৎপন্ন হবে।
এখানে
একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে
রাখতে হবে শুধু চৌম্বক
ক্ষেত্র থাকা যথেষ্ট নয়;
চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তন ঘটতে হবে।
উদাহরণ
একটি
কুণ্ডলীর সামনে একটি দণ্ড চুম্বক
রাখা আছে।
- চুম্বক স্থির → ফ্লাক্স অপরিবর্তিত → আবিষ্ট EMF নেই
- চুম্বক কুণ্ডলীর দিকে এগোচ্ছে → ফ্লাক্স পরিবর্তিত → আবিষ্ট EMF সৃষ্টি
- চুম্বক কুণ্ডলী থেকে দূরে যাচ্ছে → ফ্লাক্স পরিবর্তিত → আবিষ্ট EMF সৃষ্টি
তাই
ফ্যারাডের প্রথম সূত্রের মূল কথা:
“পরিবর্তনশীল চৌম্বক ফ্লাক্সই আবিষ্ট EMF-এর কারণ।”
ফ্যারাডের
দ্বিতীয় সূত্র
Faraday's Second Law কী বলে?
ফ্যারাডের
দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, কোনো বর্তনীতে আবিষ্ট EMF-এর মান বর্তনীর সঙ্গে সম্পর্কিত চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হারের সমানুপাতিক।
অর্থাৎ
চৌম্বক ফ্লাক্স যত দ্রুত পরিবর্তিত
হবে, আবিষ্ট EMF-এর মানও তত
বেশি হবে।
ধরা
যাক, একই পরিমাণ চৌম্বক
ফ্লাক্স পরিবর্তন করা হলো:-
- ধীরে ধীরে পরিবর্তন করলে → কম EMF
- দ্রুত পরিবর্তন করলে → বেশি EMF
এটাই ফ্যারাডের দ্বিতীয় সূত্রের মূল ধারণা।
| বিষয় | ফ্যারাডের প্রথম সূত্র | ফ্যারাডের দ্বিতীয় সূত্র |
|---|---|---|
| মূল বক্তব্য | ফ্লাক্স পরিবর্তন হলে EMF সৃষ্টি হয়। | EMF-এর মান ফ্লাক্স পরিবর্তনের হারের সমানুপাতিক। |
| গুরুত্ব | আবিষ্ট EMF সৃষ্টির শর্ত ব্যাখ্যা করে। | আবিষ্ট EMF-এর পরিমাণ ব্যাখ্যা করে। |
| প্রকৃতি | গুণগত ব্যাখ্যা। | পরিমাণগত ব্যাখ্যা। |
| মূল ধারণা | Flux পরিবর্তন | Rate of Change of Flux |
| সূত্র | নির্দিষ্ট গাণিতিক রূপ নেই। | E = -N dΦ/dt |
ফ্যারাডের
সূত্রের গাণিতিক রূপ
ফ্যারাডের
দ্বিতীয় সূত্রের গাণিতিক রূপ হলো:
এটি
Faraday law formula বা
electromagnetic induction formula হিসেবে
পরিচিত।
এখানে,
$E$ = আবিষ্ট (EMF) তড়িৎ চালক বল (Induced EMF) [একক: volt বা $\text{V}$]
$N$ = কুণ্ডলীর মোট পাকসংখ্যা (Number of turns)
$\Delta\Phi$ = চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তন ($\Phi_2 - \Phi_1$) [একক: Weber বা $\text{Wb}$]
$\Delta t$ = ফ্লাক্স পরিবর্তনের সময়কাল [একক: second বা $\text{s}$]
$\frac{\Delta\Phi}{\Delta t}$ = সময়ের সাথে ফ্লাক্স চৌম্বক পরিবর্তনের হার
ঋণাত্মক ($-$) চিহ্ন = লেঞ্জের সূত্রানুসারে নির্দেশ করে যে, আবিষ্ট তড়িৎ চালক বলের দিক এমন হয় যা তার সৃষ্টির কারণকেই (ফ্লাক্সের পরিবর্তন) বাধা দেয়।
যদি
চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনকে সসীম পরিবর্তন হিসেবে
ধরা হয়, তাহলে:
অথবা
আবিষ্ট EMF-এর মানের ক্ষেত্রে:
একটি
মাত্র পাকের ক্ষেত্রে
যদি
কুণ্ডলীতে মাত্র একটি পাক থাকে,
অর্থাৎ (N=1), তাহলে:
ফ্যারাডের তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ পরীক্ষা (ইন্ডাকশন প্রক্রিয়া)
মাইকেল ফ্যারাডে দেখিয়েছিলেন যে, কোনো বদ্ধ পরিবাহী কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তন হলে সেই কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িচ্চালক বল (emf) এবং আবিষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ উৎপন্ন হয়।
১. কয়েল (কুণ্ডলী)
মাঝখানে একটি তামার তারের কুণ্ডলী রাখা আছে। এটি একটি বদ্ধ পরিবাহী লুপ।
২. চুম্বক (বার ম্যাগনেট)
- বাম দিকে একটি চুম্বক কয়েলের ভিতরে ঢোকানোর অবস্থায় দেখানো হয়েছে।
- ডান দিকে আরেকটি চুম্বক কয়েল থেকে বের করার অবস্থায় দেখানো হয়েছে। চুম্বকের N এবং S মেরু স্পষ্টভাবে চিহ্নিত।
৩. গ্যালভানোমিটার কয়েলের দুই প্রান্ত গ্যালভানোমিটারের সাথে যুক্ত। গ্যালভানোমিটারের কাঁটা বাম বা ডান দিকে সরে গেলে বোঝা যায় যে আবিষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি হয়েছে।
পরীক্ষার ধাপ ও ফলাফল
| কাজ | কী ঘটে | গ্যালভানোমিটারে কী দেখা যায় |
|---|---|---|
| চুম্বককে কয়েলের ভিতরে দ্রুত ঢোকালে | চৌম্বক ফ্লাক্স বাড়ে। | কাঁটা একদিকে সরে যায় (আবিষ্ট প্রবাহ)। |
| চুম্বককে কয়েলের বাইরে দ্রুত বের করলে | চৌম্বক ফ্লাক্স কমে। | কাঁটা বিপরীত দিকে সরে যায়। |
| চুম্বককে কয়েলের ভিতরে স্থির রাখলে | ফ্লাক্সের কোনো পরিবর্তন নেই। | কাঁটা শূন্যে থাকে (কোনো প্রবাহ নেই)। |
মূল সিদ্ধান্ত (ফ্যারাডের আবেশ সূত্র)
কয়েলের মধ্য দিয়ে চৌম্বকীয় ফ্লাক্সের পরিবর্তন হলে কয়েলে আবিষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ (তড়িচ্চালক শক্তি) সৃষ্টি হয়। ফ্লাক্স পরিবর্তন যত দ্রুত হবে, আবিষ্ট বিদ্যুৎ প্রবাহ তত বেশি হবে।
সংক্ষেপে মনে রাখার বিষয়
- শুধু চুম্বক থাকলেই প্রবাহ হয় না।
- ফ্লাক্সের পরিবর্তন হতে হবে।
- পরিবর্তনের হার যত বেশি, আবিষ্ট emf তত বেশি।
- লেঞ্জের সূত্র অনুসারে আবিষ্ট প্রবাহের দিক এমন হয় যেন তা ফ্লাক্সের পরিবর্তনকে বাধা দেয়।
চৌম্বক
ফ্লাক্স কী?
ফ্যারাডের
সূত্র বুঝতে হলে চৌম্বক ফ্লাক্স (Magnetic Flux) সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।
কোনো
নির্দিষ্ট পৃষ্ঠের মধ্য দিয়ে মোট
কতটা চৌম্বক ক্ষেত্র অতিক্রম করছে, তার পরিমাপকে চৌম্বক
ফ্লাক্স বলে।
চৌম্বক ফ্লাক্সের সূত্র:
এখানে,
- ( Φ )
= চৌম্বক ফ্লাক্স
- (B) = চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতা বা magnetic flux
density
- (A) = ক্ষেত্রফল
- (θ)
= চৌম্বক ক্ষেত্র (B) এবং ক্ষেত্রফলের লম্বের মধ্যকার কোণ
চৌম্বক
ফ্লাক্সের SI একক হলো ওয়েবার
(Weber, Wb)।
চৌম্বক
ফ্লাক্স কীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে?
এই সমীকরণ থেকে বোঝা যায়
যে তিনটি বিষয় পরিবর্তন করে
ফ্লাক্স পরিবর্তন করা সম্ভব:
- চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতা (B) পরিবর্তন করে
- ক্ষেত্রফল (A) পরিবর্তন করে
- ক্ষেত্রের সঙ্গে কুণ্ডলীর অবস্থান বা কোণ (θ) পরিবর্তন করে
তাই শুধু চুম্বক নড়াচড়া করলেই নয়, বিভিন্ন উপায়ে চৌম্বক ফ্লাক্স পরিবর্তন করা যায়।
আবিষ্ট
EMF কী?
চৌম্বক
ফ্লাক্সের পরিবর্তনের কারণে কোনো পরিবাহকে যে
তড়িৎচালক বল সৃষ্টি হয়
তাকে আবিষ্ট EMF (Induced EMF)
বলে।
এটি
প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যাটারি বা
রাসায়নিক উৎস ছাড়াই তৈরি
হতে পারে।
ফ্যারাডের
সূত্র অনুযায়ী:
অর্থাৎ,
আবিষ্ট
EMF ∝ চৌম্বক
ফ্লাক্স পরিবর্তনের হার
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বর্তনী খোলা থাকলেও আবিষ্ট EMF থাকতে পারে। তবে বর্তনী সম্পূর্ণ বা বন্ধ না হলে সাধারণত আবিষ্ট তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে না।
ফ্যারাডের
সূত্রে ঋণাত্মক চিহ্ন কেন?
অনেক
শিক্ষার্থীর প্রশ্ন থাকে, ফ্যারাডের সূত্রে ঋণাত্মক (-) চিহ্ন কেন?
এর উত্তর পাওয়া যায় লেঞ্জের সূত্র (Lenz's Law) থেকে।
ফ্যারাডের
সূত্র:
এখানে
ঋণাত্মক চিহ্ন নির্দেশ করে যে আবিষ্ট
EMF বা আবিষ্ট তড়িৎ প্রবাহের দিক এমন হয়, যাতে এটি যে চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের কারণে সৃষ্টি হয়েছে, সেই পরিবর্তনকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে।
এটাই
লেঞ্জের সূত্রের মূল বক্তব্য।
সহজ
উদাহরণ
ধরা
যাক, একটি চুম্বককে কুণ্ডলীর
দিকে এগিয়ে আনা হচ্ছে। এতে
কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে চৌম্বক
ফ্লাক্স বাড়ছে।
কুণ্ডলীতে
এমন দিকের আবিষ্ট তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি
হবে যাতে কুণ্ডলী এমন
একটি চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে যা
এই ফ্লাক্স বৃদ্ধিকে বাধা দেয়।
তাই:
ফ্যারাডের
সূত্র → আবিষ্ট EMF-এর মান নির্ণয় করে
লেঞ্জের
সূত্র → আবিষ্ট EMF/তড়িৎ প্রবাহের দিক নির্ণয় করতে সাহায্য করে
ফ্যারাডের
সূত্র কীভাবে কাজ করে?
তড়িৎ
চৌম্বকীয় আবেশকে কয়েকটি ধাপে বোঝা যায়:
ধাপ
১: চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি
একটি
চুম্বক বা তড়িৎচুম্বক থেকে
চৌম্বক ক্ষেত্র পাওয়া যায়।
ধাপ
২: পরিবাহকের সঙ্গে চৌম্বক ফ্লাক্সের সম্পর্ক তৈরি
চৌম্বক
ক্ষেত্র কোনো কুণ্ডলী বা
পরিবাহকের মধ্য দিয়ে অতিক্রম
করে।
ধাপ
৩: চৌম্বক ফ্লাক্স পরিবর্তন
চুম্বক
নড়ানো, কুণ্ডলী নড়ানো, চৌম্বক ক্ষেত্র পরিবর্তন করা বা কুণ্ডলীর
অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্লাক্স পরিবর্তিত হয়।
ধাপ
৪: আবিষ্ট EMF সৃষ্টি
ফ্লাক্স
পরিবর্তনের ফলে পরিবাহকে আবিষ্ট
EMF সৃষ্টি হয়।
ধাপ
৫: বর্তনী বন্ধ হলে প্রবাহ
বর্তনী
বন্ধ থাকলে সেই আবিষ্ট EMF-এর
কারণে আবিষ্ট তড়িৎ প্রবাহ প্রবাহিত
হতে পারে।
ফ্যারাডের সূত্রের একটি সহজ Numerical Example
ধরা যাক, একটি কুণ্ডলীতে $100$ টি পাক রয়েছে। কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত চৌম্বক ফ্লাক্স $0.2\text{ s}$-এ $0.02\text{ Wb}$ থেকে পরিবর্তন হয়ে $0.08\text{ Wb}$ হলে, কুণ্ডলীতে আবিষ্ট তড়িৎ চালক বল ($\text{EMF}$) কত হবে?
এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায়,
পাকসংখ্যা বেশি হলে এবং
একই সময়ে ফ্লাক্সের পরিবর্তন
বেশি হলে আবিষ্ট EMF-ও
বেশি হতে পারে।
ফ্যারাডের
সূত্রের ব্যবহার কোথায়?
ফ্যারাডের
সূত্র শুধু পরীক্ষার খাতায়
লেখার জন্য নয়। আধুনিক
বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির বহু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রের
কার্যপ্রণালির সঙ্গে এটি সরাসরি সম্পর্কিত।
১.
বৈদ্যুতিক জেনারেটর
জেনারেটরে যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করা হয়। কুণ্ডলী ও চৌম্বক ক্ষেত্রের আপেক্ষিক গতি বা পরিবর্তনের কারণে কুণ্ডলীর সঙ্গে সম্পর্কিত চৌম্বক ফ্লাক্স পরিবর্তিত হয়। ফলে আবিষ্ট EMF সৃষ্টি হয়। অতএব জেনারেটরে ফ্যারাডের সূত্রের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২.
ট্রান্সফরমার
ট্রান্সফরমারে একটি কুণ্ডলীতে পরিবর্তনশীল তড়িৎ প্রবাহের কারণে পরিবর্তনশীল চৌম্বক ফ্লাক্স তৈরি হয়। সেই পরিবর্তনশীল ফ্লাক্স অন্য কুণ্ডলীর সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে সেখানে আবিষ্ট EMF সৃষ্টি করে। এভাবেই ট্রান্সফরমার বৈদ্যুতিক শক্তির ভোল্টেজ পরিবর্তনে সাহায্য করে।
৩.
ইন্ডাকশন কুকার
ইন্ডাকশন কুকারে পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে ধাতব পাত্রে আবিষ্ট তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করা হয়। পাত্রের বৈদ্যুতিক রোধের কারণে তাপ উৎপন্ন হয়। তাই ইন্ডাকশন কুকারে ফ্যারাডের সূত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
৪.
ইন্ডাকশন মোটর
ইন্ডাকশন
মোটরের কার্যপ্রণালিতেও তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবর্তনশীল
চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে রটরে আবিষ্ট তড়িৎ
প্রবাহ সৃষ্টি হয় এবং এর
ফলে টর্ক উৎপন্ন হয়।
৫.
মাইক্রোফোন ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র
কিছু
ধরনের মাইক্রোফোনে কুণ্ডলী ও চৌম্বকের আপেক্ষিক
গতির মাধ্যমে যান্ত্রিক কম্পনকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করা হয়। এর
পেছনেও তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশের
ধারণা কাজ করে।
দৈনন্দিন
জীবনে
Electromagnetic Induction-এর
ব্যবহার
আমরা
সরাসরি না বুঝলেও তড়িৎ
চৌম্বকীয় আবেশের ধারণা বিভিন্ন প্রযুক্তিতে ব্যবহার করি। যেমন:
- বৈদ্যুতিক জেনারেটর।
- ট্রান্সফরমার।
- ইন্ডাকশন কুকার।
- ইন্ডাকশন মোটর।
- বিভিন্ন ধরনের সেন্সর।
- কিছু ধরনের মাইক্রোফোন।
- বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থা।
ফ্যারাডের
সূত্র ও লেঞ্জের সূত্রের সম্পর্ক
ফ্যারাডের সূত্র এবং লেঞ্জের সূত্র একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
| বিষয় | ফ্যারাডের সূত্র | লেঞ্জের সূত্র |
|---|---|---|
| মূল বিষয় | আবিষ্ট EMF-এর মান। | আবিষ্ট প্রবাহ/EMF-এর দিক। |
| কী ব্যাখ্যা করে | কত EMF সৃষ্টি হবে। | কোন দিকে আবিষ্ট প্রবাহ চলবে। |
| গাণিতিক সম্পর্ক | E = -N dΦ/dt | ঋণাত্মক (−) চিহ্নের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে। |
| মূল ধারণা | ফ্লাক্স পরিবর্তন। | পরিবর্তনকে বাধা দেওয়ার প্রবণতা। |
কোন
কোন উপায়ে আবিষ্ট EMF বাড়ানো যায়?
ফ্যারাডের সূত্র:
থেকে বোঝা যায়, আবিষ্ট EMF বাড়ানোর কয়েকটি উপায় হলো:
- কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা (N) বাড়ানো।
- চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হার বাড়ানো।
- চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতা পরিবর্তন দ্রুত করা।
- কুণ্ডলী ও চৌম্বক ক্ষেত্রের আপেক্ষিক গতি বাড়ানো।
- প্রয়োজন অনুযায়ী কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বা অবস্থান পরিবর্তন করা।
অর্থাৎ মূল বিষয় হলো চৌম্বক ফ্লাক্সকে যত দ্রুত পরিবর্তন করা যায়, আবিষ্ট EMF তত বেশি হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ
বৈজ্ঞানিক বিষয়
১.
শুধু চৌম্বক ক্ষেত্র থাকলেই EMF সৃষ্টি হয় না
একটি
স্থির চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থির পরিবাহক থাকলেই তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ
ঘটবে এমন নয়। প্রয়োজন
হলো উপযুক্তভাবে চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তন।
২.
বর্তনী খোলা থাকলেও EMF থাকতে পারে
বর্তনী
খোলা থাকলে আবিষ্ট EMF সৃষ্টি হতে পারে, কিন্তু
সম্পূর্ণ বর্তনী না থাকায় আবিষ্ট
তড়িৎ প্রবাহ চলতে পারে না।
৩.
বেশি পাক মানে বেশি EMF
একই
হারে ফ্লাক্স পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা (N) বাড়ালে আবিষ্ট EMF-এর মান বাড়ে।
৪.
পরিবর্তনের হার গুরুত্বপূর্ণ
একই
পরিমাণ ফ্লাক্স পরিবর্তন যদি কম সময়ে
ঘটে, তাহলে আবিষ্ট EMF বেশি হবে।
মনে
রাখার মতো ৮টি বিষয়
পরীক্ষার
প্রস্তুতির জন্য নিচের পয়েন্টগুলো
মনে রাখতে পারেন:
- তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ হলো চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের কারণে আবিষ্ট EMF সৃষ্টির ঘটনা।
- ফ্যারাডের সূত্রের দুটি অংশ প্রথম সূত্র ও দ্বিতীয় সূত্র।
- প্রথম সূত্র আবিষ্ট EMF সৃষ্টির শর্ত ব্যাখ্যা করে।
- দ্বিতীয় সূত্র আবিষ্ট EMF-এর মান নির্ণয় করে।
- ফ্যারাডের সূত্রের গাণিতিক রূপ:$$E = -N \frac{d\Phi}{dt}$$
- চৌম্বক ফ্লাক্সের সূত্র:$$\Phi = BA \cos\theta$$
- আবিষ্ট EMF-এর SI একক ভোল্ট (V)।
- ফ্যারাডের সূত্রের ঋণাত্মক চিহ্ন লেঞ্জের সূত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
পরীক্ষায়
লেখার মতো সংক্ষিপ্ত উত্তর
ফ্যারাডের
প্রথম সূত্র কী?
উত্তর:
কোনো বদ্ধ বর্তনীর সঙ্গে
সম্পর্কিত চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তন ঘটলে ওই বর্তনীতে
আবিষ্ট EMF সৃষ্টি হয় এটাই ফ্যারাডের
প্রথম সূত্র।
ফ্যারাডের
দ্বিতীয় সূত্র কী?
উত্তর:
কোনো বর্তনীতে আবিষ্ট EMF-এর মান বর্তনীর
সঙ্গে সম্পর্কিত চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হারের সমানুপাতিক এটাই ফ্যারাডের দ্বিতীয়
সূত্র।
ফ্যারাডের
সূত্রের গাণিতিক রূপ কী?
যেখানে
(E) হলো আবিষ্ট EMF, (N) হলো পাকসংখ্যা এবং
(\Phi) হলো চৌম্বক ফ্লাক্স।
ফ্যারাডের
সূত্র: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
সংক্ষিপ্ত
প্রশ্ন
প্রশ্ন
১: তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ কী?
উত্তর: চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের ফলে কোনো পরিবাহকে
আবিষ্ট EMF সৃষ্টির ঘটনাকে তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ
বলে।
প্রশ্ন
২: আবিষ্ট EMF-এর SI একক কী?
উত্তর: ভোল্ট (V)।
প্রশ্ন
৩: চৌম্বক ফ্লাক্সের SI একক কী?
উত্তর: ওয়েবার (Wb)।
প্রশ্ন
৪: ফ্যারাডের সূত্রে ঋণাত্মক চিহ্ন কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: আবিষ্ট EMF-এর দিক চৌম্বক
ফ্লাক্সের পরিবর্তনকে প্রতিহত করে এটি নির্দেশ
করার জন্য ঋণাত্মক চিহ্ন
ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন
৫: ফ্যারাডের সূত্রের মূল সমীকরণ কী?
উত্তর:
MCQ: ফ্যারাডের
সূত্র
১.
তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশের মূল কারণ কী?
ক) স্থির তড়িৎ প্রবাহ
খ) চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তন
গ) স্থির তাপমাত্রা
ঘ) স্থির বৈদ্যুতিক বিভব
সঠিক
উত্তর: খ) চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তন
২.
আবিষ্ট EMF-এর একক কোনটি?
ক) ওয়েবার
খ) টেসলা
গ) ভোল্ট
ঘ) অ্যাম্পিয়ার
সঠিক
উত্তর: গ) ভোল্ট
৩.
ফ্যারাডের সূত্রের সমীকরণ কোনটি?
ক)
(V=IR)
খ) (F=qE)
গ)
$$E = -N \frac{d\Phi}{dt}$$
ঘ) (P=VI)
সঠিক
উত্তর: গ) $$E = -N \frac{d\Phi}{dt}$$
৪.
ফ্যারাডের সূত্রের ঋণাত্মক চিহ্ন কোন সূত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত?
ক) ওহমের সূত্র
খ) কুলম্বের সূত্র
গ) লেঞ্জের সূত্র
ঘ) গাউসের সূত্র
সঠিক
উত্তর: গ) লেঞ্জের সূত্র
৫.
একই হারে ফ্লাক্স পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা দ্বিগুণ করলে আবিষ্ট EMF কী হবে?
ক) অর্ধেক হবে
খ) অপরিবর্তিত থাকবে
গ) দ্বিগুণ হবে
ঘ) শূন্য হবে
সঠিক
উত্তর: গ) দ্বিগুণ হবে
সাধারণ
ভুল ধারণা
ভুল
ধারণা ১: চুম্বক থাকলেই EMF তৈরি হয়
এটি
সঠিক নয়। মূল বিষয়
হলো চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তন।
ভুল
ধারণা ২: বেশি চৌম্বক ক্ষেত্র মানেই সবসময় বেশি EMF
শুধু
(B)-এর মান বেশি হলেই
যথেষ্ট নয়। ফ্লাক্স কত
দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভুল
ধারণা ৩: বর্তনী খোলা থাকলে কোনো EMF নেই
এটিও
ভুল। খোলা বর্তনীতেও আবিষ্ট
EMF থাকতে পারে; তবে আবিষ্ট প্রবাহ
চলার জন্য বন্ধ পথ
প্রয়োজন।
ভুল
ধারণা ৪: ফ্যারাডের সূত্র ও লেঞ্জের সূত্র একই
দুটি
সূত্র সম্পর্কিত হলেও একই নয়।
ফ্যারাডের সূত্র মূলত আবিষ্ট EMF-এর
মানের সম্পর্ক দেয়, আর লেঞ্জের
সূত্র আবিষ্ট প্রভাবের দিক বোঝায়।
ফ্যারাডের
সূত্র এক নজরে
এবং,
সুতরাং
মূল ধারণাটি হলো:
চৌম্বক
ফ্লাক্স পরিবর্তন → আবিষ্ট EMF → বর্তনী বন্ধ থাকলে আবিষ্ট তড়িৎ প্রবাহ
এই তিনটি ধাপ মনে রাখলে তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশের মৌলিক ধারণা সহজেই বোঝা যায়।
ফ্যারাডের
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক
ইন্ডাকশন সূত্র আধুনিক তড়িৎ ও চৌম্বকত্বের
অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কোনো বর্তনীর সঙ্গে
সম্পর্কিত চৌম্বক ফ্লাক্স পরিবর্তিত হলে আবিষ্ট EMF সৃষ্টি হয়, আর সেই EMF-এর
মান ফ্লাক্স পরিবর্তনের হারের ওপর নির্ভর করে।
ফ্যারাডের প্রথম সূত্র আমাদের বলে কখন আবিষ্ট EMF সৃষ্টি হবে, আর দ্বিতীয় সূত্র বলে সৃষ্ট EMF-এর মান কত হতে পারে। এর গাণিতিক রূপ ($$E = -N \frac{d\Phi}{dt}$$), যেখানে ঋণাত্মক চিহ্নটি লেঞ্জের সূত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, ইন্ডাকশন কুকারসহ বহু প্রযুক্তিতে এই নীতির ব্যবহার রয়েছে। তাই SSC, HSC এবং উচ্চতর পদার্থবিজ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি বোঝার জন্যও ফ্যারাডের সূত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Frequently Asked Questions (FAQ)
১.
ফ্যারাডের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন সূত্র কী?
চৌম্বক
ফ্লাক্সের পরিবর্তনের কারণে কোনো পরিবাহকে আবিষ্ট
EMF সৃষ্টি হওয়া এবং সেই
EMF-এর মান ফ্লাক্স পরিবর্তনের
হারের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়াকে ফ্যারাডের তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশের
সূত্র বলা হয়।
২.
ফ্যারাডের সূত্রের সূত্র কী?
ফ্যারাডের
সূত্রের গাণিতিক রূপ হলো:
এখানে
(N) হলো পাকসংখ্যা এবং (Φ) হলো চৌম্বক ফ্লাক্স।
৩.
ফ্যারাডের প্রথম সূত্র কী?
চৌম্বক
ফ্লাক্সের পরিবর্তন হলে কোনো বর্তনীতে
আবিষ্ট EMF সৃষ্টি হয় এটাই ফ্যারাডের
প্রথম সূত্র।
৪.
ফ্যারাডের দ্বিতীয় সূত্র কী?
আবিষ্ট
EMF-এর মান চৌম্বক ফ্লাক্সের
পরিবর্তনের হারের সমানুপাতিক এটাই ফ্যারাডের দ্বিতীয়
সূত্র।
৫.
তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশ কীভাবে ঘটে?
কোনো
পরিবাহকের সঙ্গে সম্পর্কিত চৌম্বক ফ্লাক্স পরিবর্তিত হলে আবিষ্ট EMF সৃষ্টি
হয়। বর্তনী বন্ধ থাকলে এর
ফলে আবিষ্ট তড়িৎ প্রবাহ চলতে
পারে।
৬.
ফ্যারাডের সূত্রের ঋণাত্মক চিহ্নের অর্থ কী?
ঋণাত্মক
চিহ্ন নির্দেশ করে যে আবিষ্ট
EMF-এর দিক চৌম্বক ফ্লাক্সের
পরিবর্তনকে প্রতিহত করার প্রবণতা দেখায়।
এটি লেঞ্জের সূত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
৭.
ফ্যারাডের সূত্রের ব্যবহার কোথায়?
বৈদ্যুতিক
জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, ইন্ডাকশন কুকার, ইন্ডাকশন মোটর এবং বিভিন্ন
বৈদ্যুতিক ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক যন্ত্রে এই
নীতির ব্যবহার রয়েছে।
৮.
পরীক্ষায় ফ্যারাডের সূত্র থেকে কী ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে?
সংজ্ঞা, প্রথম ও দ্বিতীয় সূত্র, গাণিতিক রূপ, চৌম্বক ফ্লাক্স, আবিষ্ট EMF, লেঞ্জের সূত্রের সঙ্গে সম্পর্ক, numerical problem এবং MCQ-এসব ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে।


.webp)

